Appearance & Reality
পর্ব -১

——

দৃশ্যত আর বাস্তবত: দুটো দুরকম- কথাটি সাড়ে চারশত বছর আগে বলেছিলেন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। ‘ Fair is foul, foul is fair’- এমন কত অদ্ভুত কথাই তিনি বলেছিলেন!

একটি গানে বলা: ‘চোখ যে মনের কথা বলে’- কথাটি কি আদৌ সত্য? মনে হয় না। চোখ সবসময় মনের কথা বলে না। অনেক সৎ, সাধু সেজে, পন্ডিত ভাব নিয়ে আসা মানু যখনষ ঘৃণ্য ও হীন কাজে ব্যস্ত থাকে, তখন তার আসল রূপ দেখে কপালে চোখ উঠে! এই চোখ হয়তো মনের কথা বলে!

মানুষের সহজাত, সাবলীল আচরণ দেখে মানুষ একসময় অনুধাবন করতেন, তিনি ভালো মানুষ৷ কিন্তু এ যুগে এরূপ আচরণে উল্টোটা ভাবার দিনও এসেছে। নাটকে অনেক সময় disguise থাকতো, ছদ্মবেশ। মানুষ ভালো মানুষের ছদ্মবেশে যত প্রকার অপকর্ম আছে, তা সবই করে।
কি সম্পর্কে, কি বন্ধুত্বে, কি ধর্মকর্মে, কি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে – এক শ্রেণির মানুষ প্রতারিত করছে তার নিকটজনদের, তার পরিচিতজনদের।।।

এবার আসা যাক, তাদের এ ছদ্মবেশ নেয়ার দরকার কি?

প্রথমত, গড়পড়তা মানুষ আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যায়, তা-ই বিশ্বাস করে। গভীরে প্রবেশ করতে চায়না। আর এ সুযোগটা নেন অপকর্মকারীরা। তারা বাস্তবে যা-ই হোক না কেন, সাজে ভালোমানুষ, বলে মুখরোচক, মনভোলানো কথা আর আচরণে নিখাদ ফেরেশতা!

আর এসবের মাধ্যমে ধোঁকা দেন অর্থ বিত্ত বা ধর্ম বা বন্ধুত্বে!
মানুষের কিছু দুর্বল জায়গা আছে: তার অন্যতম হলো, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, ধর্ম, নীতিকথা আর মানবপ্রেম। আর এসব কিছুরই মুখোশ বা ছদ্মবেশ নেন ধান্ধাবাজেরা।

বন্ধুর রূপ ধারণ করে বছরের পর বছর চলার পরও এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে ধোঁকা দিয়ে যায়। যে মুহুর্তে প্রতারিতজন বুঝতে পারেন তার কথিত শঠ ‘বন্ধু’: কথা, সে সময় অনেক দেরি হয়ে যায়।
এভাবে সমাজে মানুষের সেবা করার কাজে, ধর্মের কাজে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের এমনভাবে ব্যস্ত রাখেন যে আপাতদৃষ্টিতে বুঝার কোন উপায়ই থাকেনা। তারা জানে, সাধারণ মানুষ এসব বিষয়ে অন্ধভক্ত ও দুর্বল আর তারা এ সুযোগটা যথাযথ কাজে লাগায়।

মানুষের এ দুমুখো স্বভাব, বহুরূপী আচরণ সম্বন্ধে বুঝার সুযোগ থাকে কম। আমরা চাকচিক্যে বিশ্বাসী হয়ে পড়ি কিংবা বকধার্মিককের প্রচারসর্বস্ব ধর্মকর্মে অগাধ আস্তা রাখি আর এর ফলো হলো: নিশ্চিত প্রতারিত হওয়া।

এভাবে appearance আর reality এর স্বরূপ সুরূপ উম্মোচিত হতে থাকে আর ভিকটিম আফসোস করে দিনাতিপাত করে থাকি!
কিন্তু চোর পালানোর আগে কি আমাদের বৃদ্ধি আর বাড়ে???

জিজ্ঞাসিব জনে জনে…

—-
মোঃ নাজিম উদ্দিন
জুন ২২, ২০২৩

লেখাটি লিখেছেন