সত্য-সুন্দর, সাম্য ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুলঃ রাউজানে নজরুলের আগমনস্মৃতি

May 25, 2023 | কবি ও কবিতা, গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস, ধর্ম, জীবন এবং জীবনভাবনা

সত্য-সুন্দর, সাম্য ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুলঃ রাউজানে নজরুলের আগমনস্মৃতি
– ———-

দারিদ্র, শোষণ, বঞ্চণা, কষ্ট, সংগ্রাম, বিদ্রোহ, খ্যাতি- এসব শব্দের সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ হয়েছে যে কয়জন কবির,
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁদের সেরাদেরই একজন।
অভাবের তাড়নায় কখনো রুটির দোকানে, কখনো লেটোবাহিনীতে, নাট্য দলে, কখনো মসজিদে আজান দেয়া, কখনো বিদ্রোহ, ভ্রমণে, স্বাধিকারের সংগ্রামে কখনো জেলের খাঁচায় বন্দী দুখু মিয়া- এ সবের মাঝে প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা তেমন না পেলেও জীবন ও জগতকে নিয়ে, সত্য, প্রেম, সাম্য, ধর্ম, নিয়ে যিনি লিখেছেন অমর সব কাব্য- তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

মাত্র ২২ বছরের সাহিত্য জীবনে তিনি সৃষ্টি করেছেন ২২টি কাব্য গ্রন্থ, ৫১টিরও অধিক গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস, প্রবন্ধগ্রন্থ, সঙ্গীতগ্রন্থ, নাটক-নাটিকা, কিশোর কাব্য, কাব্যানুবাদ, কিশোর নাটিকা- আর ৫ হাজারেরও বেশি গান।

১১ জৈষ্ঠ ১৩০৬, ২৫ মে ১৮৯৯ বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে পিতা কাজী ফকির আহমদ, মাতা জাহেদা খাতুন এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯০৮ সালে কবি বাবাকে তিনি। এরপর রচিত হলো সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস।
১৯৭২ এর ২৪ শে মে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
১৯৭৬ সালের ২৫ জানুয়ারী কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।, ২১ ফেব্রয়ারী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট সকাল ১০টা ১০মিনিটে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে কবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবিকে সমাহিত করা হয়।
—-

রাউজানে নজরুলঃ
কবি ১৯২৬-১৯৩৩ সালে মোট ৩বার চট্টগ্রামে এসে প্রায় ৭২দিনের মতো অবস্থান করেছিলেন । ১৯৩৩ সনে মে মাসে রাউজানে প্রিয় নজরুল তরুণ সংঘের কনফারেন্স ও শিক্ষা সম্মিলনী নামক সাহিত্য সম্মেলনে কবি নজরুলের আগমন ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা ।
রাউজান ঢেউয়া হাজিপাড়ায় কবি নজরুলকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল ।
কবি নজরুল রাউজানের ঢেউয়া হাজী বাড়ীতে রাত্রিযাপন করেন।

চল চল চল-রণসংগীতসহ কয়েকটি কবিতা ও গান পরিবেশন করলে মুহুর্মুহু করতালীর সাথে দর্শক শ্রোতাদের মাঝে অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশের দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল ।
জানা যায়, দু’দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ সর্বজনাব বিপ্লবী মাষ্টারদা সূর্যসেন, কবি নবীন সেন, কবি দৌলত কাজি, হামিদ আলীর মতো প্রমূখ বরেণ্যজন ।
সেদিন রাউজানের রায় মুকুট দীঘির পাড়ের অনুষ্ঠানে আগত কবিকে একনজর দেখা তাঁর বক্তৃতা শোনা কবির কন্ঠে কবিতা-গান-গজল শুনতে মুহুর্তে হাজার-হাজার, লোকের জনস্রোত নামে।
সংবর্ধনা- ভালোবাসার এ অনুষ্ঠানে কবিকে দেখার জন্যে জনস্রোতের শৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ-মেষ টিকেটের ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়েছিল ।
কোন কবিকে এক নজর দেখতে টিকেট প্রয়োজন এক বিরল ঘটনা !

দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন খান বাহাদুর আবদুল মোমেন (চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার) ও আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ । স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্ঞানতাপস ডঃ এনামুল হক । তাছড়া, বক্তৃতা করেন সর্বজনাবঃ হাবিবুল্লাহ বাহার, মাহবুবুল আলম, ওহিদুল আলম, কামাল উদ্দীন, আবুল ফজল, নজির আহমদের মতো ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, সম্মেলনের আয়োজকবৃন্দের মধ্যে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন এডভোকেট অলি মিয়া চৌধুরী, ইউনুস চৌধুরী, মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আহমদ চৌধুরী সহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ । তাছাড়া, মোহাম্মদপুর গ্রামের বিদ্যোৎসাহী নুরুল আবছার চৌধুরী, নুরুল আলম চৌধুরী, আবদুল কুদ্দুস মাষ্টার, হাফিজুর রহমান বি,এ,বিটি সহহ অনেকে অনুষ্টানে আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলে জানা যায়।
——-
(তথ্যসূত্রঃ জনাব নুরুল কবির করিমীর লেখা ও অন্যান্য প্রবন্ধ)–
——

রচনা ও সংকলনে
মোঃ নাজিম উদ্দিন
২৫ মে

(তথ্যসমূহ সংগৃহীতঃ ভুল পরিলক্ষিত হলে কমেন্টে জানিয়ে/সংশোধন করে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করার অনুরোধ রইলো)

লেখাটি লিখেছেন