যায়-দিন-ভালো, আসে-দিন-হোক আরো ভালো: বিশ্ব প্রবীণ দিবস ভাবনা

760
98

যায়-দিন-ভালো, আসে-দিন-হোক আরো ভালো: বিশ্ব প্রবীণ দিবস ভাবনা


সবসময় একটা কথা শুনি-“যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ”; এ কথার মধ্যে বর্তমানের সাফাই যেমন আছে, তেমনি ভবিষতের জন্য রয়েছে এক দানবীয় নেতিবাচকতা। ‘দানবীয়’ শব্দটা বিশেষ অর্থেই ব্যবহার করলাম। সেটার ব্যাখ্যা নিয়ে পরে আসছি।

মানুষ মাত্রই সংগ্রামী জীবনের এক কিংবদন্তী; সে জন্মপূর্বে মাতৃজটরে যেমন কোটি কোটি শুক্রাণুর মধ্যে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে মানবশিশু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে; এ এক বিষ্ময়কর ব্যাপার। সে বিজয়ী শুক্রাণুর উৎপত্তির শুরু থেকে মায়ের গর্ভ হতে বের হওয়া, তারপর ধীরে ধীরে বড় হওয়া, জীবনের এ যুদ্ধে প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকা এক বিরাট ব্যাপার, যা ভাবতেই গা শিউরে উঠে।

এত বিশাল দায়িত্ব নিয়ে আমাদের এ ধরাতে আগমন, আমরা সত্যিই বিশাল ভাগ্যবান মানুষ জাতি।
আবার সকল সৃষ্টির সেরা হিসেবে।আগমন, যেন সোনায় সোহাগা!
জন্ম থেকে শুরু করে মানুষ ধীরে ধীরে প্রথমে পরিবার, বাবা মা, সমাজ, রাষ্ট্র -সকলের সহায়তায় শৈশব, কৈশোর, যৌবন পার হয়ে পৌড়ত্ব বরণ করার আগে অনেক দায়িত্ব, কর্তব্য সম্পাদন করে থাকে।
যেন আমাদের জন্মই হয়েছে পৃথিবীর দায়িত্ব নেয়ার এবং জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে উড্ডয়ন করেছে জয়-পতাকা, মানবচিহ্নও।

এই মানুষই পেরেছে প্রস্তর যুগ থেকে আধুনিক যুগে উত্তরণ ঘটাতে, আলোহীন আঁধার রাতকে নিয়ন আলোয় জ্বলমলে আলোকবর্তিকার বিচ্চুরণ ঘটাতে। ভয়কে জয়নকরে, আবেগের অনেক স্থানকে বেগের বিজ্ঞান দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেছে। সর্বত্রই মানুষের জয়জয়কার।

আজ থেকে বিশ বা পঁচিশ বছর আগে যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, তারা দেখতে পারেন নি রোবট, অনলাইন বিপ্লব, ইন্টারনেট, মোবাইলসহ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি; তাদের দেখার সৌভাগ্য হয়নি মানব জয়কেতনের শিখরকে। বিজ্ঞান ও গবেষণার এ স্তর হয়তো আরো উড্ডীন হবে নবো নবো পরিমন্ডলে- যা নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাবে সভ্যতাকে।

তবে এ বেগের সাথে দরকার মূল্যবোধের সমন্বয়; মানবিক মানুষ হওয়ার সুপ্ত বাসনা, অদম্য ইচ্ছা। নইলে বিজ্ঞানের কিছু খারাপ বা অপব্যবহারকে দায়ী করতে গিয়ে “আসে দিন খারাপ” প্রমাণ করতে দ্বিধাবোধ করবেনা বাকিরা।

আর আমাদের মধ্যে যারা পুরানো ধ্যান-ধারণার বলি হয়ে ‘যায় দিন ভালো’ বলে ‘আসে দিন খারাপ’কে মুখস্থ করান নব প্রজন্মের কাছে, তারা সত্যিকারের ‘দানবীয়’ নেতিবাচকতায় ঠেলে দিচ্ছে আজকের প্রজন্মের ভাবনাবিশ্বকে। তারা নিজেদের অজান্তেই বিশ্বাস করাতে চান ‘ সামনের আগামী অন্ধকারাচ্ছন্ন’! এহেন নৈরাশ্যবাদ আমাদের কাম্য নয়। আমরা বিশ্বাস করি -better days wiill.come again..

অনেকে অভিযোগ করেন, কিছু বা গুটিকয়েক শ্রদ্ধেয় প্রবীণজন তাদের ধ্যান-ধারণার শিকার করেন নব প্রজন্মকে; এ বিষয়ে সুস্পষ্ট হওয়া দরকার যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ উৎকর্ষের দাবিদার এ কালরর প্রবীণ শ্রদ্ধেয়জনেরা, যারা নিজেদের দুর্দান্ত যৌবনে ত্যাগ তিতিক্ষা দিয়ে গড়েছেন সুন্দর আজকের পৃথিবী।

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস। ১৯৯০ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রতিবছর এ দিন এ দিবসটি পালনে সম্মত হয়। দিনটিতে প্রবীণদের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি তাঁদের অবদান স্মরণ করা হয় সারা বিশ্বে।

মানুষ এক বিস্ময়কর সৃষ্টি: দারুন এক বিপ্লব। মানুষই পারে আগামীকে আজকের চেয়ে আরো ভালো রূপে রূপান্তর করতে; বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে…

আসুন, সামনের দিনগুলোকে আজকের চেয়ে উত্তম, আরো আলোকিত করতে প্রবীণের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান আর পরামর্শ আর নবীনের উদ্যমের দারুন সংমিশ্রণে নেমে পড়ি সুন্দরের বিনির্মাণে।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
১ অক্টোবর, ২০২০…

760 COMMENTS

  1. This blog is definitely rather handy since I’m at the moment creating an internet floral website – although I am only starting out therefore it’s really fairly small, nothing like this site. Can link to a few of the posts here as they are quite. Thanks much. Zoey Olsen