মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার কার্যকরী উপায়ঃ পর্ব ১

0
44

মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার কার্যকরী উপায়ঃ পর্ব ১

—-

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ- কথাটা বেশ কিছু ক্ষেত্রে সত্য। প্রযুক্তি আমাদের জীবনে নানা উৎকর্ষের যোগান দিয়েছে সত্য, কিন্তু স্মার্টফোন কখনোই আপনার একমাত্র বন্ধু এবং কথোপকথনের সহযোগী হতে পারেনা। ফোন বা মোবাইল আসক্তি এলকোহল বা জুয়ার আসক্তির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। এটা সত্য যে, এলকোহলের মতো এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক নয়, কিন্তু
মোবাইল ফোনের তেজক্রিয়তা মানুষের ব্রেন, চেতনা এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক প্রভাবিত করে।

তাহলে উপায়?

কিছু কার্যকর কৌশল বা পন্থা আপনাকে এবং আপনার সন্তানকে মোবাইল আসক্তির ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। নিচে তেমন কিছু কৌশল উল্লেখ করা হলোঃ

১) সবকিছু একটি ডিভাইস বা যন্ত্রে করবেন না। একটি স্মার্টফোন দায়ে আপনি আপাতত দৃষ্টিতে বই, সংবাদপত্র, ক্যামেরা, এমপি৩ প্লেয়ার, ক্যামেরা, টিভি, গেইমস, কম্পিউটার এবং অনেক প্রয়োজনীয়   কাজ করতে পারে এবং একই সাথে পূর্বের প্রজন্ম যে সব সুবিধা পাননি, সেসব সুবিধাদিরও সুযোগ করে দিতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, মোবাইল ফোনকে সবকিছুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হবে!

২) একটির পর একটি কাজে ব্যস্ত থাকলে তা শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এটি আপনাকে অধিক বহুমুখি করবে। আপনার পছন্দ অপছন্দের অনুভূতিও অনেক মাধ্যমে প্রকাশিত হবে। তাই পারিবারিক ডিনার বা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের তথ্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা কখনোই উচিত নয়।

৩) স্ক্রিনটাইম সীমিত করুন। কন্ট্রোল এপ বা টাইমার ব্যবহার করতে পারেন। নিয়ন্ত্রিত করবে আপনার সময়, সুশৃঙ্খল হবে আপনার জীবন।

৪) নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। একটা নোটিফিকেশন দেখতে হয়তো এপটা খুলেন, কিন্তু এরপর নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আপনার প্রায় ঘন্টাও চলে যায়। নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে সে প্রলোভন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৫) ফোনবিহীন কিছু সময় ঠিক করুন, প্রতিদিন। সারাদিন সাথে ফোন রাখার প্রয়োজন পড়েনা।
রাতে খাবারের সময়, টিভি দে্রকার সময়, পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সময় সব ডিভাইসসবন্ধ রাখুন।

৬) ফোনটা দূরে করে রাখুন। চোখের সামনে রাখলে তখন প্রতিমিনিটেই আপনাকে মোবাইল ফোনের দিকে তাকাতে প্রলুব্ধ করতে পারে।

৭) ফোন লক করে রাখুন। kidsloxসহ অনেক এপ আছে যেগুলো ফোন বন্ধ কোর দারুন কৌশল শেখায়। এত কখন ফোন বন্ধ থাকবে, কখন খুলবে- তা নির্দেশিত হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই। ধীরে ধীরে আপনি অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।

৮) শোয়ার ঘর থেকে দূরে রাখুন। নইলে ঘুমানোর পূর্বে বা ঘুম থেকে উঠেই আপনি মোবাইল খুঁজতে থাকবেন। তাছাড়া, গবেষণায় জানা যায়, শরীরের কাছে ফোন থাকলে তা নার্ভ সাস্টেমেও প্রভাবিত করে।

৯) খারাপ অভ্যাসগুলো বদলে ফেলুন। সময় না কাটলে মোবাইল ফোন না নিয়ে বই হাতে নিন। মনোবিজ্ঞানীরা প্রায়শ ফোন চেক না করে নতুন কোন সৃজনশীল কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। কোন দীর্ঘ অপেক্ষা, রেলস্টেশনে বোরিং সময় ইত্যাদি কাটাতে ফোনের দিকে না তাকিয়ে নতুন কিছু করতে পারেন, পারেন প্রিয় লেখকের একটি বই পড়তে, হতে পারে ২/৪ পৃষ্টাও।

১০) বাস্তবিক হোন। প্রিয় স্বজনদের সাথে সবসময় ফোনে বা ম্যাসেঞ্জারে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলার চেয়ে মাঝে মধ্যে, পরিবেশ প্রতিবেশ দেখে সামনাসামনি সাক্ষাতের চেষ্টা করতে পারেন। প্রকাশ করুন আবেগ অনুভূতি, হোক আড্ডা, গল্পও।
এতে সত্যি দারুন উপভোগ করবেন।
১১) চিন্তার পরিবর্তন ঘটান। চিন্তার পরিবর্তন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলর দিবে। ভাবুন, সবসময় মোবাইলের দিকে তাকানো যতটা প্রয়োজনীয় ভা জরুরী ভাবেন, ততটা জরুরী নয়। তাই সেটাকে ইগনোর করুন।

মনে রাখবেন, আপনার খারাপ সময়েই আসক্তি নামক ধ্বংসাত্মক বিষয় ঢুকে পড়ে। পূর্ণ জীব। উপভোগ করুন। অগ্রাধিকার দিন জীবনের পরিপূর্ণতাকে।

প্রযুক্তি কখনোই অকল্যাণকর নয়, যদি আমরা তা যথাযথভাবে ব্যবহার বা প্রয়োগ করতে পারি। আর প্রযুক্তি, নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, মোবাইল ফোনও ততক্ষণই প্রয়োজনীয় আর কল্যাণকর যতক্ষণ  তা আসক্তির পর্যায়ে না পৌঁছে।

নিজে সুস্থ থাকুন। অগ্রাধিকার দিয়ে সময় দিন। আসক্তি মুক্ত হয়ে পরিপূর্ণ ব্যবহারকারী হোন।

———–
সূত্রঃ ইন্টারনেট।

সংকলনেঃ মোঃ নাজিম উদ্দিন
nazim3852@gmail.com
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০