বৃষ্টির জন্য প্রার্থণা

85
18

বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা

ধর্ম নিয়ে জ্ঞান আমার নিতান্ত কম, যা শুন্যের কোটায় বলা যায়।
তবু অপরের কাছ থেকে জানা কয়েকটি কথা বলিঃ
প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট জনজীবন- ফেইসবুক বা সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হতে পারে, তবে এর উত্তরণের কারণ? কারো জানা নেই।
বস্তুবাদীগণের ভাষায় প্রকৃতির পরিক্রমা। আবহাওয়াবিদগণও তাই বলবেন, সাথে কিছু আশা, কিছু আকাঙ্খা, কিছু “হতে পারে” যোগ করবেন, স্বাভাবিক।
প্রকৃতি তার আপন গতিতে চলে, সত্য। তাই বলে মানুষের একটা কাজ করার সাধ্য তো আছে, সেটা কী? বলছি।
‘জলে এবং স্থলে যত দুর্যোগ মহামারী, তা মানুষের পাপের কারণে হয়’- ধর্মের এ বাণী যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য, যে নিষ্পাপ শিশু গরমের যন্ত্রণায় কাতরায়, সে তো কোন পাপ করেনি। তাহলে বুঝা যায়, আল্লাহর দয়া যেমন পাপী-পুণ্যবান সবার জন্য প্রাকৃতিকভাবে প্রদত্ত, তেমনি গজব বা শাস্তিও সমভাবেই….
আল্লাহর উপর প্রচন্ড বিশ্বাসীগণ আল্লাহর সকল সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টঃ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন নি মুক্তির জন্য, বরং জেনেছেন, কিছু প্রয়োজন হলে
আল্লাহই দিবেন। নবী করিম (সাঃ) মক্কা-তায়েফ কোথাও লাঞ্চনা বঞ্চনায় চান নি আল্লাহর বিশেষ ‘ফেভার’।
আল্লাহও বলেছেন, “রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, ওয়া রাদুয়ান, উলাইকা হিযবুল্লাহ” (ভুল ক্ষমার্হ)। অর্থটা হয়ত এরকমই- ‘যারা আল্লাহর উপর রাজী/ সন্তুষ্ট, এবং যাদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট, তারাই আল্লাহর দলভুক্ত”। নবী-রাসূলসহ প্রকৃত আবেদ, মুত্তাকী আল্লাহর কোন কাজের অসন্তুষ্ট নন, সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তার সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট।
তবে পাপীগণেরর জন্যও আছে অমোঘ বাণী “লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লা”: আল্লাহর রহমত বা দয়া হতে নিরাশ হয়ো না”।
“ইন্নামা আমরুহু ইজা আরাদা সাইঁয়া……কুন ফাইয়াকুন” বা মোদ্দাকথা, যিনি ‘হও’ ইচ্ছা করলেই হয়ে যায়, তার কাছে অবিচল আস্থা বা দৃঢ় বিশ্বাসে প্রার্থনা বা দোয়া করা ছাড়া কি বা করার আছে?
ছোটবেলায় একবার বৃষ্টির জন্য খালি খোলা মাঠে বৃষ্টির জন্য নামাজে দাড়ানোর কথা মনে আছে। আরো দেখতাম বৃষ্টির জন্য হরেক রকমের প্রার্থনা।
কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম, প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট বান্দাগণ বৃষ্টির জন্য প্রার্থনায় ছুটে যাচ্ছিলেন। সবার ভীড়ে শুধু একজনই যাওয়ার সময় ছাতা নিয়ে যাচ্ছিল। কারণ, তার বিশ্বাস ছিল, প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করবেন এবং প্রার্থনা শেষে বৃষ্টি হবে আর বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার জন্য ছাতা প্রয়োজন হবে।

সেই সুদৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আমাদের শুধু একটা কাজই করার আছে, তা হলঃ প্রার্থনা,
যে প্রার্থনা কবুল হলে আল্লাহর রহমতে সবই সম্ভব।
আমরা সে পরিচ্ছন্ন অন্তর, দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে প্রার্থনা করতে পারি না এবং জানি না সত্য,
তবে যে আল্লাহর রহমত বা দয়া তার গজব বা রাগের চেয়ে অনেকগুণ বেশি।
কেয়ামতের ময়দানে সাত সূর্যের তাপ ঠিক মাথার উপর পড়ায় ঘর্মাক্ত ‘অস্থিত্বে’ ঘর্মবন্যায় ভাসবে যখন যারা বিচারাধীন, তখনও আল্লাহ চাইলেই মার্জনা করে দিতে পারেন। কোটি বছর জ্বলতে থাকায় কালো বর্ণ ধারণ করা জাহান্নামের আগুনের অবর্ণনীয় শাস্তি মুহূর্তেই মাফ করে দিতে পারেন, সেই সর্বশক্তিমান। যিনি উত্তরণের কিছু পথ, কিছু প্রার্থনা বাবা আবেদনের ফরম্যাট আগেই শিখিয়ে দিয়েছেন, যেমন, ” আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান্নার…”

সে দয়াল প্রভুর দরবারে প্রার্থনাঃ
হে আল্লাহ, আমাদের রহমতের বৃষ্টি দান করে সবুজাভ বৃক্ষতরুলতা, নিষ্পাপ শিশুসহ সবাইকে রক্ষা করুন।

———–
মোঃ নাজিম উদ্দিন

85 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here