বিরক্তিকর!

0
23

বিরক্তিকর

 

(১)
ফোনে কথা বলছেন, এসময় একজন এসে বলতে লাগলো, ভাই, এ ঠিকানাটা কোথায়, একটু দেখবেন? আপনি বারংবার ইশারা করে বলছেন, ফোনে কথা বলছেন, তবু্ও তিনি বলতেই থাকবেন, আমি কি অপেক্ষা করবো? বিরক্তির চরম সীমায় পৌঁছে আপনি ফোনে কথা বলার ব্যক্তিকে সম্ভব হলে হয়তো বলবেন, আপনাকে একটু পর করছি। ফোন রেখে আগন্তুককে যখনই বলবেন, ভাই, বারবার বলছি ফোনে আছি, তবুও আপনি কথা বলতেই আছেন! আগন্তুক তখন হয়তো বলবেন, ও, সরি। খেয়াল করা উচিত ছিলো!

(২)

ফোনে কল এলে রিসিভ ককরার সুযোগ না থাকলে কেটে দিলেন। সাথে ম্যাসেজ দিলেন, সরি, একটু পরে কল দিচ্ছি। মনে করলেন, যাক, কাজটা সেড়ে নিই। তখনই দেখবেন একই ব্যক্তির বারংবার কল। কেটে দিচ্ছেন, ম্যাসেজ দিচ্ছেন। তারপরও কল থামেনা। অগত্যা ফোন ধরে সাহস করে বলে ফেললন, ভাই, দেখছেন বারবার কেটে দিচ্ছি, তারপরও কল দিচ্ছেন! তিনি বলবেন, ওহ, সরি খেয়াল করিনি! যোগ করতে পারেন এ কথা- আসলে ফোন কানে দিয়ে দেখিনি তো। তাই…

বাঙালী!!

(৩)
গাড়ি চালাচ্ছেন। এমনি একজন কল দিলেন। দু একবার কেটে দেয়ার পর যখন রিংটোনের ঝামেলা থেকে বাঁচতে কল রিসিভ করলেন, ও প্রান্ত থেকে জিজ্ঞাসিত হতে পারেন, ভাই কি ব্যস্ত আছেন। আপনি বললেন, জ্বি, আসলে গাড়ি ড্রাইভিং এ। তখনও দেখবেন এক শ্রেণির মানুষ বলবেন, আচ্ছা, এক মিনিট সময় নিবো… বলেই শুরু করবেন বিবিধ প্রশ্ন…. মানুষের কান্ডজ্ঞান নিয়ে আপনার জানার পরিধি বাড়তে থাকবে!

(৪)
শেয়ার গাড়িতে উঠেছেন। বা পাবলিক বাসে। পাশের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করতে পারে। পরের প্রশ্ন, কোথায় চাকুরি করছেন? উত্তর দিলেন। তাতে চুপ থাকবেন। এমন আশা করলেন। কিন্তু না। কিছু মানুষ এবার পরের প্রশ্ন করে বলবেন, আচ্ছা, আপনার প্রতিষ্টানের অমুককে চিনেন? আপনাদের অমুক শাখায় আমার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় চাকুরি করেন। ভদ্রতার খাতিরে নাম জানতে চাইলে বলতেও পারেন, আসলে নামটা মনে নেই!
এবার বলবেন, আচ্ছা, আপনাদের কোম্পানির কি কি সুবিধা আছে? আপনি যদি বলেন, ভাই অফিসে আসেন। তিনি বলবেন, না, আপনার ফোন নম্বরটা দিন… ইত্যাদি।
একবার এক ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। শিশু বিশেষজ্ঞ। সিরিয়াল নং নিয়ে দিয়েছিলেন আমার এক সহকর্মী। সে সুবাদে কোথায় চাকুরি করি, তা জানেন। বাচ্চার রোগ জানার আগেই শুরু করলেন, ভাই, আপনাদের কোম্পানী এবার কত লাভ করেছে? ইপিএস কত হতে পারে? আসলে কিছু শেয়ার কিনেছি তো… ইত্যাদি..
কি বলবেন, বলেন?!

পুনশ্চঃ
জাপানসহ উন্নত দেশে মানুষ অপরজনের কথা ভেবে নিজের কর্ম, বাক্য ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করেন। অপরের বিরক্তির কারণ না হওয়ার জন্যই তাদের যত চেষ্টা! আর আমাদের আশে পাশে লোকজন? ঠিক উল্টো। আপনাকে ঠকিয়ে হলেও, আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়ে হলেও তার কাজটা সবার আগে আদায় করতে চায়! কী বিচিত্র!!

কী বিরক্তিকর!


ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২