“পিঁপড়ার প্রলাপ” বুক রিভিউ

112
33

বুক রিভিউ:

“পিঁপড়ার প্রলাপ” কাব্যগ্রন্থ: হৃদ-ভুবনের আদ্যপান্ত
——-

সবাই ছিল, আমিও ছিলাম, সবার মতো করে
সবাই আছে, আমিই শুধু, লক্ষ যোজন দূরে….”
(শিরোনামহীন-#১)

একটা বই মানেই একটা নতুন জন্ম। কবিতা, সেতো হৃদয়ের নিংড়ানো সকল উচ্ছ্বাস, নির্যাসের সারাংশ মাত্র। প্রতিটি শব্দেই থাকে কবির আবেগের উচ্ছ্বাস, ছন্দের দ্যোতনা, উপচে পড়া স্বতঃস্ফূর্ততার বহিঃপ্রকাশ আর হর্ষ, বেদনার অনুভূতি শত। একেকটা কাব্যগ্রন্থ কবিমনের সুগভীর ভাব যেন সর্বোচ্চ শব্দভান্ডার, ছন্দের প্রতিস্থাপন বৈ কিছু নয়। সবচেয়ে সেরা কবিতাগুলোই কাব্যগ্রন্থের জন্য বাছাই করে পাঠকের সামনে নিয়ে আসেন কবি।
আমাদের প্রিয় বন্ধু, মিতভাষী, প্রচারবিমুখ মনিরুল ইসলামও তার ব্যতিক্রম নয়। “এব্রাম আহিদ” ছদ্মনামে তার প্রথম প্রকাশনা “পিঁপড়ার প্রলাপ” এ বিষয়বস্তুর, শৈল্পিক উপস্থাপনা, নান্দনিক প্রচ্ছদ, দু’লাইনের কবিতা থেকে ৪০+ লাইনের কবিতার সমন্বয় এবং সর্বোপরী বিষয়বস্তুর গভীরতা ও যথার্থতা সহজপাঠ্য উপস্থাপনা ইত্যাদি সুনিপুণ হাতে সংমিশ্রণ করেছেন।

কাব্যগ্রন্থ “পিঁপড়ার প্রলাপ” এর প্রথম কবিতার শিরোনামও যেন অনন্য: “আহবান”.. শুরুটা বইয়ের বাকি কবিতার মতোই, আকর্ষণীয়:

“মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আজ অপারগ আমাকে কেন্দ্রপৃষ্টে ধরতে,
আমি যে তোমার হরিণ চোখের হিম শীতল মায়ার টানে আবেশিত!”

ধীরে ধীরে বইয়ের ভেতরে প্রবেশ করে মুগ্ধ হবেন কবিতা পড়ার চুম্বকতায়। পরেরটা পড়ার জন্য আকুলতা তাড়া করবে আপনাকে।
দারুন সব বিষয়, শত কল্পনা, সহস্র বিরহ, প্রাপ্তির মিলনে কাব্যগ্রন্থটি বেগবান করবে আপনাকে।

তবে শেষের “শিরোনামহীন” অংশের দুলাইন ও চার লাইনের কবিতাগুলো এক পৃষ্টায় একাধিক ‘দুলাইনের কবিতা” দেয়া যেতো। কয়েকটি কবিতায় দীর্ঘক্ষণ কোন যতিচিহ্ন দেয়া হয়নি; হয়তো কবির কোন ভাবনা থেকেই তা হয়েছে: তবে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে পারে (যেমন পৃষ্টা: ৪১- “সময় করে একটু সময় কবিতা)..

শেষাংশে ব্যক্তিগত নোট সংযোজন টা অভিনব। তবে, কবির জীবনী কবির মতোই প্রচারবিমুখতা প্রকাশ করেছে: করেছে বইয়ের নামের মতোই ‘ বিনয়ের সর্বোচ্চ প্রকাশ’ : এ নাম হতে পারতো: ‘আমার কাব্য’, ‘আমার কবিতা’ বা অন্যকিছু: কিন্তু নিজের ‘আমিত্ব’ কে একেবারে প্রচার না করে ‘পিঁপড়া’র মতো ক্ষুদ্রকায় নামলেশহীন প্রাণীর সাথে আর কবিতাগুলোকে ‘প্রলাপ’ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজেকে কিভাবে লুকিয়ে রাখতে হয়। তবে কবিবন্ধু যে ‘পিঁপড়া’র মতো কঠোর পরিশ্রমে সাধন করেছে সাধনাটি, তা পাঠকমাত্রই সহজে অনুধাবন করতে পারবেন।
আমি মুগ্ধ। আমি বিমোহিত। আমি অভিভূত।

কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থের জন্য শুভকামনা। কাব্যসুধা ছড়িয়ে পড়ুক, সকল হৃদয়ে।

বইটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল বই, ধানমন্ডি, ঢাকা এবং নৈঋতা ক্যাফে, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
প্রাপ্তিস্থানঃ অমর একুশে বইমেলা, স্টল নং ৪০২, কবি মানস।
তাছাড়া, রকমারীর অনলাইন ভুবনেও পাওয়া যাচ্ছে।

বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
চট্টগ্রাম
৪ এপ্রিল ২০২১

112 COMMENTS