দুখন্ড সময়

0
3

দু্খন্ড সময়

 

সময়কে নিজের করে নিয়েছিলাম কতো আগেই!
ভেবেছিলাম সময়ের সমস্ত বৃত্ত এভাবেই কাটবে:
সুপ্ত সকাল, অলস দুপুর আর উদাসী বিকালে
কিংবা কুয়াশাময় সাঁজের মায়ায়, অথবা
বিনিদ্র রজনীতে রোমাঞ্চেভরা আষাঢ়ী গল্পে..
শীতের সকাল বা গভীর রজনীর মতোই
উঞ্চতান্বেষণে তাপের খোঁজে ছুটে চলা নিরুত্তাপ
নিরুদ্বেগে উদাসীন সময় সম্পূূর্ণই আমারই, এমনই..

জীবনের মধ্যাহ্নে পৌঁছানোর আগেই
কত ঝড় এসে নিভিয়ে দিলো শৈশবের ফানুস!
সুপ্ত কৈশোর মু্ছে গেলো দায়িত্বের জোয়ালে,
ছায়াহীন রৌদ্রে জীবনের মধ্যাহ্ন আর আলস্যের খোঁজ পায়না!
সে কী কঠিন সংগ্রাম! কঠোর দিনরাত্রি…

একদিকে জীবনের হাল, অপরদিকে দায়িত্বের খড়গ
সময়কে ঠিক মাঝখানে দুভাগ করে দিলো, নির্মমতায়।
এভাবে কী কেটে যাবে বিকাল সাঁজ রজনী?

দুখন্ড সময় আর কখনোই কি পাবেনা দর্শন?
শৈশবের উড়ু মন বা কৈশোরের দায়িত্বহীনতা
কিংবা প্রাক যৌবনের উদাসীন ছুটে চলা বিরল!
কী এক দুঃসহ রুটিনময়তা, নিঠুর সমাজ,
নুয়ে পড়া কাঁধে ক্লান্তির বয়োঃচাপ!
‘সেই’ অখন্ড সময় আজ ফেটে চৌচির,
উদাস সময় আজ কতকাল দেখিনা চোখে
দু্খন্ড সময় আর এক হয়না, হে পথিক!
পথভুলে পাথহারানোর উপায়ও যে নেই, দিকবিদিক….

মোঃ নাজিম উদ্দিন
নভেম্বর ১৬, ২০২২