জুমা দিবসের ভাবনা-৯ : নীরবতার যথার্থতা

Jan 12, 2024 | ধর্ম, জীবন এবং জীবনভাবনা | 0 comments

জুমা দিবসের ভাবনা-৯

নীরবতার যথার্থতা
———————-——

মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মুখ৷ জিহবা। এর যথাযথ ব্যবহারে মানুষ সম্মানিত হন। অপব্যবহারে হন অপমানিত।
অনিয়ন্ত্রিত কথাবার্তা এবং বাকশক্তির অপব্যহারের কারণে সৃষ্টি হয় নানা ধরণের সমস্যা।
বাকশক্তি ও জিহ্বার নিয়ন্ত্রণে অনেক গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

হাদিসের ভাষ্যমতে ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা।
সে অপ্রয়োজনীয়-অনর্থক বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রহমানের বান্দা তারা, যারা জমিনে নম্রভাবে বিচরণ করে এবং অজ্ঞলোক যখন তাঁদের লক্ষ করে কথা বলেন, তখন তাঁরা শান্তিপূর্ণ কথা বলেন।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৩)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ইমান আনে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ইমান আনে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর ইমান আনে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরবতা অবলম্বন করে।
(বুখারি, হাদিস : ৬১২০)..

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একদা রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, ‘কোন কাজটি বেশি পরিমাণে মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন, আল্লাহভীতি, ভালো আচরণ ও উত্তম চরিত্র। রাসুল (সা.)-কে আবার প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজ বেশি পরিমাণে মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪).

চুপ থাকা বহু বিপদ থেকেও রক্ষা করে। বাঁচায় বহু সংকট থেকেও।৷ William Shakespeare এর আহবানও ছিলো: ‘Speak less than you know ‘…

কোন প্রতিবাদ, এড়িয়ে চলা ইত্যাদি যথাযথভাবে সম্ভব শুধুমাত্র চুপ থাকার মাধ্যমেই… অনেক সময় শব্দের চেয়ে নৈঃশব্দ্য ভয়ানক, কার্যকরও… ‘silence is more ferocious than revolution..

হযরত উমর (রা.) বলেন, ‘চুপ থাকার কারণে আমি কখনো লজ্জায় পড়িনি। তবে কথা বলার কারণে আমি অনেকবার লজ্জিত হয়েছি।’

আল্লাহ আমাদের সত্য কথা বলার তৌফিক দিন এবং অনর্থক কথায় সময় ব্যয় থেকে রক্ষা করুন।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
জানুয়ারি ১২, ২০২৪

 

লেখাটি লিখেছেন