জুমা দিবসের ভাবনা-৮ঃ নবীদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের স্মরণ

Jan 5, 2024 | গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস, ধর্ম, জীবন এবং জীবনভাবনা | 0 comments

জুমা দিবসের ভাবনা-৮

নবীদের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের স্মরণ


আল্লাহ প্রেরিত নবী রাসূলদের পর যিনি
শ্রেষ্ট মানব উপাধী পেয়েছেন, তিনি প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ)।

অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, জ্ঞানের গভীরতা, কুরআনের নীতি-জ্ঞানে পরিপক্বতা, কর্তব্য-নিষ্ঠা, জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে সমগ্র পৃথিবীব্যাপী যত রাষ্ট্রনায়ক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁর নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন ইসলামি খিলাফাতের প্রথম খলিফা, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু।

৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন হযরত আবু বকর (রাঃ)।

খোদা ও নবীপ্রেমে ব্যাকুল ছিলেন তিনি। তাবুক অভিযানে হযরত আবু বকর ছিলেন মুসলিম বাহিনীর পাতাকাবাহী। এই অভিযানের সময় তিনি রাসূলের (সাঃ) এর আহবানে সাড়া দিয়ে তাঁর সকল অর্থ রাসূলের (সাঃ) হাতে তুলে দেন। অবাক হয়ে রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছু রেখেছো কি?’
জবাবে আবু বকর (রাঃ) বললেন,
‘তাদের জন্য আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলই যথেষ্ট।’

হযরত আবু বকর (রাঃ) নবীজির সান্নিধ্যে থেকেছেন জীবনের শেষ পর্যন্ত। তাঁর কথাগুলো জ্ঞানের আলোকবর্তিকা।

হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেন, মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই ভাগ্যবান যিনি লোভমুক্ত হয়েছেন এবং স্বীয় কর্তব্য নির্ধারণপূর্বক যথা সময়ে তা পালন করতে তৎপর হয়েছেন। সুতরাং তুমি কখনই দিনের করণীয় রাতের জন্য অথবা রাতের করনীয় দিনের জন্য ফেলে রাখবে না এবং কাজের গুরুত্ব ও লঘুত্ব উপলব্ধি করে সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সমাধা করবে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি আবুবকর (রা:)-এর ভালবাসা ও সাহায্য- সহানুভূতি ছিল অনন্য, অদ্বিতীয়। এজন্যই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছিলেন, ‘আমি যদি আমার রব ব্যতীত অন্য কাউকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম তাহলে আবূবকরকে গ্রহণ করতাম’।

৬৩৪ খিস্টাব্দ তথা ১৩ হিজরির ২২ জমাদিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।

আল্লাহ পাক হযরত আবু বকর (রাঃ) এর আদর্শ মেনে চলার তৌফিক দান করুন।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
জানুয়ারি ৫, ২০২৪

লেখাটি লিখেছেন