জুমা দিবসের ভাবনা-৭’ — অপচয় করোনা, অভাবে পড়োনা’

Dec 22, 2023 | গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস, ধর্ম, জীবন এবং জীবনভাবনা | 0 comments

জুমা দিবসের ভাবনা-৭অপচয় করোনা, অভাবে পড়োনা’

সমাজে অভাব, বৈষম্য, দুর্ভোগ তৈরির অন্যতম হাতিয়ার অপচয, অপব্যয়।
এ অপচয় শুধু অপচয়কারীরই নয়, বরং তার চারপাশের অনেকের জন্য দুর্ভোগের কারণ।
অপচয়ের আরবি শব্দ ‘ইসরাফ’।
ইসলামে যেসব বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার অন্যতম হলো অপচয়। কোরআন এবং হাদিসে অপচয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপচয়ের ব্যাপারে নিন্দা জানিয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,
‘হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান কর। পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। ( সুরা আরাফ, ৩১)

পবিত্র কোরআনের আরো বলা হয়েছে, ‘অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৬, ২৭)

প্রিযনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সীমালঙ্ঘন ও অহংকার না করে খাও, দান কর এবং পরিধান কর।’

হজরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘ যা ইচ্ছা পানাহার কর এবং যা ইচ্ছা পরিধান কর, তবে শুধু দুটি বিষয় থেকে বেঁচে থাক। (এক) তাতে অপব্যয় অর্থাৎ প্রয়োজনের চাইতে বেশী না হওয়া চাই এবং (দুই) গর্ব ও অহংকার না থাকা চাই। (নাসায়ী: ২৫৫৯)

এ অপচয়ে একদিকে যেমন সমাজে ভারসাম্য নষ্ট হয়, তেমনি আর্থিক বৈষম্য বেড়ে যায়। প্রয়োজনে ব্যয় করা যায়না এবং এক সময় অপচয়কারী নিজেও অর্থাভাবে অর্থকষ্টে পড়েন। অথচ আমাদের সমাজে বিভিন্ন আয়োজনে অপচয়ের চিত্র সত্যি ব্যথিত মর্মাহত করার মতো। অনেক ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি নিজের সম্পদের মহড়া দিতে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করে থাকেন। যার নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে সমাজের সর্বত্র।

আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান করুন।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
ডিসেম্বর ২২, ২০২৩

লেখাটি লিখেছেন