জুমা দিবসের ভাবনা-১৩- ‘দুষ্কৃতকারীরূপে পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি কোরো না।’

Feb 9, 2024 | গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস, ধর্ম, জীবন এবং জীবনভাবনা | 0 comments

জুমা দিবসের ভাবনা-১৩

‘দুষ্কৃতকারীরূপে পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি কোরো না।’

শান্তি ইসলামের মূলবাণী। এখানে নৈরাজ্যের কোন স্থান নেই, নেই অশান্তির কাজের কোন আশ্রয়।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,
‘দুষ্কৃতকারীরূপে পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি কোরো না।’
(সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬০)

অন্যত্র বলা হযেছে,
দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না। আল্লাহকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। (সুরা আরাফ, আয়াত : ৫৬)
এ আয়াতটি পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশক একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। সব ধরণের অন্যায়, অপরাধ, জুলুম, হত্যা ও ত্রাস সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কারণ এ বিশ্বের প্রতিটি ক্ষুদ্র-বৃহৎ বস্তু আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট ও তাঁরই আজ্ঞাধীন। মানুষ যত দিন আল্লাহ তাআলার আজ্ঞাধীন থাকে, এসব বস্তু তত দিন মানুষের খাদেম হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে মানুষ যখন আল্লাহর অবাধ্যতা করতে শুরু করে, তখন জগতের প্রতিটি বস্তু অজান্তে ও পরোক্ষভাবে মানুষেরও অবাধ্য হয়ে ওঠে।।
তাছাড়া, হাদিসের ভাষায় কোনো নিরপরাধ মুসলিমকে হত্যা করাকে কুফরির পর্যায়ের পাপ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিমকে গাল দেওয়া ফাসেকি কাজ (জঘন্য পাপ) আর কোনো মুসলিমকে হত্যা করা কুফরি। (বুখারি, হাদিস : ৭০৭৬)।

ইসলামে সীমালঙ্ঘন ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীর কোনো স্থান নেই, স্থান নেই যারা তুচ্ছ দুনিয়ার মোহে পড়ে, অন্যের ক্ষতি করে বেড়ায়, মানুষ হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না-তাদের।।
মহান আল্লাহ সালেহ (আ.)-এর মাধ্যমে তাঁর উম্মতদের সীমা লঙ্ঘনকারী ও ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘এবং সীমা লঙ্ঘনকারীদের নির্দেশের আনুগত্য করো না, যারা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না।

অতএব, প্রত্যেকের উচিত, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ইত্যাদি এড়িয়ে চলা। ফিতনা থেকে নিজেদের দূরে রাখা।
মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

ফেব্রুযারী ৯, ২০২৪

লেখাটি লিখেছেন