জুমা দিবসের ভাবনা-১০: জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা

Jan 19, 2024 | গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস, ধর্ম, জীবন এবং জীবনভাবনা | 0 comments

জুমা দিবসের ভাবনা-১০

জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা
—————————-

“পড়ো তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন ।” প্রথম ওহী ‘পড়ো’।
পবিত্র কোরআনের প্রথম শব্দ “পড়ো’. জ্ঞান অর্জন তথা আবশ্যক পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটা মুসলিম নর-নারীর ওপর অবশ্য কর্তব্য।

নামাজ, রোজা ইত্যাদি ফরজ বিষয় এবং দৈনন্দিন লেনদেন ও আচার-ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়াদির মাসআলা-মাসায়েল ও হুকুম-আহকাম জানা আবশ্যক।

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহতায়ালা তাদের মর্যাদা অনেক উঁচু করে দেন। (সূরা মুজাদালা, আয়াতঃ ১১)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, “তোমরা যারা জানো না, যারা জানে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও।”
হাদিসে এসেছে,
আল্লাহতায়ালা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনি বা ধর্মীয় জ্ঞান দান করেন।
(বুখারি ও মুসলিম)।
মৃত্যু পরবর্তী সময়েও উপকারী জ্ঞান দ্বার্ মানুষ উপকৃত হয়;
আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘যখন মানুষ মৃত্যু বরণ করে, তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি আমল এমন যার সাওয়াব বন্ধ হয় নাঃ
১) ছাদক্বায়ে জারিয়া অর্থাৎ- প্রবাহমান ছাদক্বাহ। ২) ইলম বা জ্ঞানঃ যার দ্বারা জনগণ উপকৃত হয়। ৩) নেক সন্তানঃ যে তার জন্য দুআ করে। (সহীহ মুসলিম, ১৬৩১)

হজরত আবু যর গিফারী (রাঃ) বলেন, রসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,
হে আবু যর! তুমি যদি সকালবেলা গিয়ে কুরআনের একটি আয়াত শিক্ষা করো, তাহলে তোমার জন্য তা একশত রাকাত নফল নামাজ পড়া থেকেও উত্তম। আর যদি সকালবেলা গিয়ে ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা কর, তাহলে তোমার জন্য তা এক হাজার রাকাত নফল নামাজ পড়া থেকেও উত্তম (ইবনে মাজাহ)।

পবিত্র জুমার দিনে মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদঃ আল্লাহ আমাদের জ্ঞান অর্জনের তৌফিক দান করুন।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
জানুয়ারি ১৯, ২০২৪

লেখাটি লিখেছেন