জিজ্ঞাসিব জনে জনেঃ তরুণেরা কোন পথে?

0
7

জিজ্ঞাসিব জনে জনেঃ তরুণেরা কোন পথে?

 

এক যুবক সারাদিন আরাম, আয়েশ, বিশ্রাম নিতে পছন্দ করতো। তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়গণ তাকে তার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে সে অনুযায়ী এগুতে বললো। সকলকে সে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বিদায় করে। একজন নাছোড়বান্দা আত্মীয় বৃদ্ধা তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তাকে উপদেশ দিতে চায়। যুবককে বলে, পড়াশুনা করো, পরিশ্রম করো। যুবক বলে, পড়াশুনা করে কী হবে?
বৃদ্ধ বলে, পড়াশুনা করলে, পরিশ্রম করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে। যুবক এবার প্রশ্ন করে, জীবনে উন্নতি করলে কী হবে? উত্তর এলো, জীবনে উন্নতি হলে তোমার জীবন সুখ শান্তি, স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর হবে। যুবক এবার প্রশ্ন করলো, এসবে কী হবে? বৃদ্ধ যুবকের প্রশ্নের ধরণ দেখে বিব্রত বিরক্তো। তবুও উত্তরে বললেন, তাহলে তুমি আরাম আয়েশ করতে পারবে, ভালো করে ঘুমোতে পারবে ইত্যাদি…
যুবক বিজয়ের হাসি দিয়ে বললো, আমি তো এখন সেটাই করছি! এত্র কষ্ট, পড়াশুনা, পরিশ্রম ইত্যাদি দিয়েই যা পাওয়া যায়, আমি তো সেটা এখনই ভোগ করছি! তো, শুধু শুধু বোকার মতো এতো পরিশ্রম কেন করবো?

আমাদের বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণদের কাছ থেকে আমরা কি ঠিক একই বার্তা পাচ্ছি না?

খুব কাছ থেকে খেয়াল করুন- কোন দিকেই বা ধাবিত হচ্ছে তারা? ছাত্র বা অছাত্র তরুণদের জীবনের লক্ষ্য কী? কে বা কারা তাদের আইডল?

কিছু তরুণকে দেখবেন, একটা দামি আইফোনের প্রতি যতো আগ্রহ, তা অন্য কোথাও, অন্য কোন বিষয়ে নেই। একটা মোবাইল বা বাইক নেয়া- ইত্যাদিতে এক শ্রেণির যুবকের যে আগ্রহ, তার কিঞ্চিতও বিদ্যাশিক্ষায় নেই।
খুব দ্রুত বৈষয়িক প্রভূত উন্নতি সাধনে তাদের দৌড়ঝাঁপ; খুব দ্রুত সব পেতে চায় তারা, আবার তেমন পরিশ্রম না করেই। উপরের গল্পের যুবকের মতোই!
অন্যকে পেছনে ফেলে বা ঠকিয়ে সামনে চলা, অন্যের ক্ষতিসকরে হলেও নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করার মাঝে তারা কোন ভুল দেখতে পায় না!
বিষয়টি ঠিক যেন বাইক চালানোর মতোই: সবাই right সাইডে থাকলেও কিছু উঠতি বয়সী বাইকার যেমন wrong সাইডে দ্রুত চালিয়ে অন্য গাড়িগুলোকে পেছনে ফেলে নির্লজ্জ হাসি দেয়। অথচ তার ততটা তাড়া নেই যতটা হাসপাতালগামি এম্বুলেন্স, অফিসগামী গাড়ি বা বিদেশগামি মাইক্রোর আছে।
আপনি বিশ্ববিখ্যাত কয়েকজন মনিষির নাম জানে কিনা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর পাবেন না। তবে লেটেস্ট মডেল মোবাইল বা বাইক বা পাশের বাড়ির/গ্রামের যুবক পালসার বা ইয়ামাহা কত দিয়ে কিনেছে, সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন ১২ প্রো কত দিয়ে কিনলো- তা তারা অবলীলায় বলে দিতে পারবে।

এভাবে দ্রুত বৈষয়িক প্রাপ্তির আকাঙ্খা তাদের এক রঙিন মোহের।ভেতর রাখে। তারা তখন তাদের মতোই কিছু বখে যাওয়া ‘সিনিয়রদের’ মাঝে নিজের ভবিষ্যত খুঁজে পায়। বিদ্যা শিক্ষা, শিষ্টাচার, ভদ্রতা তাদের অভিধান থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। সাথে মাঝে মাঝে যুক্ত হয় রাজনীতির ছোঁয়া! অছাত্র হয়েও ছাত্র রাজনীতির পুরোধা হয়ে উঠে অনেকে! বড় নেতার নজরে পরে যখন গড়ে তুলতে পারে অঢেল সম্পদ, তখন উঁচু নিচু সমান তালেই দেখে সে! তার সামনে শিষ্টাচার, বিনয় বা উচ্চ শিক্ষা লাভ- সবই।যেন দুর্বলতা, বোকামি, সেকেলে, সময় নষ্ট মনে হয়! এভাবেই গড়ে উঠে একেক বড়লক্স!!!

তবে সব জায়গায় সব তরুণই এভাবে একই গতিতে, একই সমান্তরালে ছুটে তা নয়। কোন স্থানে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে দেশে এসে।ধরাকে সরাজ্ঞান করার প্রবণতা বেশি, কোথাও পেশিশক্তি, কোথাও অপরাজনীতি আর কোথাও দখলবাজ, জুলুমবাজি! এ এক বিরাট কর্মযজ্ঞ!
উচ্চ শিক্ষা লাভ করে একটা সরকারি বা বেসরকারি চাকুরি করে ছোটবেলা থেকে অর্থকষ্টে থাকা মধ্য বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের যুবকের চাইতে এ লাইনগুলোতে বৈষয়িক সাফল্য খুব দ্রুত হয়্র হয় দৃশ্যমানও। এর নির্লজ্জ পরিণতি দৃশ্যমান হয় তখনি যখন দেখা যায় সমাজপতিরাও বলে উঠে- এসব পড়াশুনা করে কী হবে? – এই “কী” কী জানেন? এই “কী” সেই বৈষয়িক অর্জন যারা তারা দ্রুত, শর্টকাট অর্জন করতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

এ সমাজব্যবস্থা বাড়াচ্ছে নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা আর সত্যিকারের চেষ্টুকেরা অপ্রাপ্তিতে “ডিপ্রেশন” নামক রোগ থেকে বাঁচতে মরিয়া!

এরই মধ্যে এসবে না তাকিয়ে দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় দিয়ে প্রকৃত সাফল্যের চূড়ায় উঠে জয়ধ্বনি দিচ্ছে অগণিত যুবক। তাদের প্রতি অভিবাদন।
জীবনের ক্যানভাস কী দিয়ে সাজাবে তা উঠতি তরুণদের দেখিয়ে, বুঝিয়ে, কাউন্সেলিং করে সঠিক পথে আনা দরকার। সময় খুব কম। তবে এখনো খুব দেরি হয়নি।
আর্থিক আর আত্মিক, বিত্তবান আর চিত্তবান, শিক্ষিত আর সুশিক্ষিত, হৃদয়বান মানবিক মানুষ আর হৃদয়হীন অমানবিক ধনী- মানুষের মাঝে তফাতটা তারা বুঝে উঠুক।
সমাজের চলার পথে অগ্রজদের ডিমোটিভেশনে বিপথে না যাক তরুণদের মাঝে বেঁচে থাকা সুপ্ত মানবিক তরুণ- বয়োকালে সৃৃজনশীল মানুষটি।

(কথাগুলো একান্ত ব্যক্তিগত ভাবনা: ভাবনার মাঝে পার্থক্য, অমিল থাকবে- স্বাভাবিক)..


নাজিম
মে ২০, ২০২২