কাটুক জীবন তৃপ্তহৃদে

0
4

কাটুক জীবন তৃপ্তহৃদে

কাউকে সদুপদেশ দিয়েছেন। কোন পরামর্শ চেয়েছে, তা দিয়েছেন। কোন সহায়তা চেয়েছে, দিয়েছেন। পরবর্তীতে দেখলেন, সে-ই আপনার বড় সমালোচক! এ শঠ লোকের সাথে এডজাস্ট করে পরবর্তী সাক্ষাতে সদালাপ কঠিন, সত্য। তার অপরাধে আপনি যদি নিজের মধ্যে রাগ, ঘৃণা পুষে রাখেন, তাহলে ক্ষতি আপনারই। এতকষ্ট পাওয়ার পরও যদি ভুলে যেতে পারেন কষ্টের কথা, তাহলে প্রকৃত সুখে সুখী হবে আপনার মন। এটা সুনিশ্চিত।

আপনি তার ক্ষতি করেননি। তবুও তার প্রতারণা, প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছেন বহুবার, ভীষণভাবে। সে প্রতারক দিব্যি অভিনয় করে বেড়ায় আপনার সাথেই। এত কষ্ট কীভাবে সইবেন? খুব কষ্ট করে যদি চেপে যেতে পারেন, তাহলে বিশ্বজয়ী পরিতৃপ্তির ঢেকুর আপনারই হবে।

আপনার সাফল্যে বা সুনামে প্রচন্ড রকমের হিংসায় জর্জরিত কিছু ব্যক্তি থাকবেই। আপনার ভালো সংবাদে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনাও প্রখর। কিন্তু আপনার মন চায়, তাকে কষ্ট দিতে। আপনি পারেন তাকে জানাতে। তাতে সে কষ্ট পাবে। আপনার উত্তরোত্তর সাফল্যই তার জন্য যথেষ্ট। শুধু তাই করুন। কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়। নীরবতা আর পাশ কাটিয়ে চলাই হবে সেরা পন্থা। বাকিটা হবে ইতিহাস।

আপনার সামনে কত রং ঢংয়ের ভালোলাগার গল্প! আপনার অবর্তমানে আপনার পেছনে যারপরনাই বদনাম আর কুৎসা রটানোর লোকেরা আপনার পরিচিতজনেরাই। মাঝে মাঝে ইচ্ছা হবে, এসবের প্রতিবাদ করে প্রতিরোধ করতে। কিন্তু তারা কী থামবে? বিগ “নো” মানে, না। নিজের মধ্যে জ্বলজ্বলন্ত রাগ ক্ষোভ নেভানোর উপায় তাহলে? ইগনোর, ইগনোর এন্ড ইগনোর। যে যার জায়গায় দারুনভাবে ভালো থাকবে!. সবচেয়ে ভালো থাকবেন আপনি। আপনি যা, আপনি তা-ই। তা-ই থাকুন।

রাগ, ঘৃণা, ক্ষোভ, প্রতিহিংসা জ্বালিয়ে রাখার মানুষের অভাব নেই আশেপাশে। আপনি এ সব বর্জ্য নিয়ে চলার চিন্তা বাদ দিন। বেলাশেষে ভালো থাকার জন্য এর চেয়ে বড় পন্থা আর নেই। যে যার হিংসা, শঠতা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি নিয়ে তৃপ্ত থাকুক, আপনি নয়।।

সেসব ভাবার মাঝে সুন্দর জীবন, আনন্দের এ মুহুর্ত, কর্মময় এ ঘন্টা নষ্ট করার কী দরকার!
কী দরকার মহান সৃষ্টিকর্তার দেয়া
‘জীবন’ নামের এ অনন্য উপহারের কিয়দাংশও নষ্ট করার, তা ও অপরের কারণে!

জীবন কেটে যাক তৃপ্তহৃদে।


মোঃ নাজিম উদ্দিন
আগষ্ট ২৮, ২০২২