এ ধরা স্বপ্নপূরণের, এ জীবন সম্ভাবনার

0
20

এ ধরা স্বপ্নপূরণের, এ জীবন সম্ভাবনার
*************

মাতৃগর্ভে একটি ডিম্বাণুর সাথে  পিতার দেহ থেকে যে ৩০ থেকে ৫০ কোটি শুক্রাণু যাত্রা শুরু করেছিলো তাদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্যে,
আপনি হচ্ছেন সেই একটিমাত্র শুক্রাণুর বিকশিত রূপ, যে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পেরেছিলো। যেন ৩০/ ৫০ কোটি শুক্রাণুর সাথে  প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়েই আপনি
এ ধরায় এসেছেন। ডিম্বানু আর শুক্রাণু মিলে যখন একটি পূর্ণাঙ্গ কোষ গঠিত হয়, ঠিক তখনই শুরু হয় আপনার সূচনা পর্ব। আপনি এখনো একটা কোষ মাত্র। পূর্ণাঙ্গ একটি মানব শরীরে একশো ট্রিলিয়নেরও বেশি কোষ থাকে।

দৃশ্যমান এ মহাবিশ্বে যতটা গ্রহ-নক্ষত্রের উপস্থিতি, ঠিক সে পরিমাণ কোষ রয়েছে আপনার শরীরে। এই যে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ, এগুলো এসেছে সে ডিম্বানু আর শুক্রাণু মিলে প্রথম যে কোষটা তৈরি হয়েছিলো, সেই একটা মাত্র কোষ থেকেই।
অবাক করার মতই। সে আদি কোষটা বিভাজন হতে হতে এতগুলো কোষের জন্ম হয়েছে।

এবার সে প্রথম বা আদি কোষ সম্পর্কে জানা যাক। সে আদি কোষে যে ডিএনএ ছিলো, তাতে ছিল ৩ বিলিয়ন লেটার (বর্ণমালা) সম্বলিত তথ্য, যা একহাজার ভলিউমের এনসাইক্লোপিডিয়ার সমান। সে তথ্য যদি খাতায় লেখা হয়, তাহলে এক মিলিয়ন পরিমাণ কাগজের দরকার পড়বে। এখন, সেই আদি কোষ যখন বিভাজিত হয়ে নতুন আরেকটি কোষের জন্ম দিবে, সেই নতুন কোষে যে ডিএনএ থাকবে, তাতেও তো এই তথ্য থাকে। এই বিশাল পরিমাণ তথ্য, তা হুবহু নতুন কোষে সরবরাহ করতে প্রথম কোষটা কতো সময় নেয় মাত্র বিশ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ আধ ঘণ্টা। এক হাজার ভলিউম এনসাইক্লোপিডিয়ার সমান তথ্য একটা কোষ থেকে অন্য একটা কোষে সরবরাহ হতে সময় নেয় মাত্র বিশ মিনিট।
এই কাজ যে একবারই হয় তা নয়। প্রতি মিনিটে আপনার শরীরে তৈরি হয় লক্ষ লক্ষ কোষ। আর প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ বার ঠিক একই কাজ পুনঃ পুনঃ ঘটছে।

বিশ্বভ্রমান্ডের বিশালতা সম্পর্কে জেনে যেভাবে আশ্চার্যান্বিত হয়ে উঠে আমাদের চিন্তাজগত, তার চেয়েও অধিক বিস্ময়ের আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ বিশাল জগত ও তার কর্মকান্ড। অনেক আশ্চর্যজনক এক সৃষ্টিরহস্যে ঘেরা বিস্ময়ের আঁধার এ মানবজীবন, শারিরীক গঠনশৈলী। অসম্ভব ক্ষমতাসম্পন্ন এ মানবশরীরের প্রতিটা নিউরণ, প্রতিটা কোষই যেন সৃষ্টিকর্তার অনন্য সৃষ্টিকৌশলের প্রতিচ্ছবি।
এ জীবনের শুধু সময়কাল বা ব্যাপ্তিই সীমাবদ্ধ, অনিশ্চিত; বাকি সব যেন অশেষ সম্ভাবনার সৃষ্টিকল্প।
মানুষের শরীরের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অংশসমূহই যেন সবচেয়ে বেশি বিস্ময়ের, শক্তিশালী। ব্রেনের কোষ নিউরণ তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এ বিস্ময়কর উপাদানসমূহেরর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাঝেই সার্থকতা এ জীবনের। যে ব্যক্তি যত বেশি সদ্ব্যবহার করতে পারেন, তিনি তত সফল, সার্থক, সম্ভাবনার ক্ষেত্র। এ উপাদানগুলো কেউ ১০% ব্যবহার করেন, কেউ ২০/৩০ বা ৪০%ও ব্যবহার করতে পারেন।
একটা ছোট ডিভাইস স্মার্টফোনের সাথেও তুলনা দেয়া যায় বিষয়টিকে।
কেউ এ ফোনকে শুধু কল রিসিভ করার জন্যই ব্যবহার করেন, কেউবা তার অতিরিক্ত কিছু কাজে লাগান, যেমন, ঘড়ির বিকল্প হিসেবে, কেউ বা রিমাইন্ডার লিস্টসহ নোটবুক, ডায়েরি হিসেবে, দিক নির্ণয়ক কাম্পাস বা আবহাওয়া সংবাদ জানার কাজে, কেউ ভ্রাম্যমাণ ইন্টারনেট, ইমেইল হিসেবে, কেউ ইবুক পড়ার কাজে, লেখালেখিসহ
অন্যান্য সব ধরণের আধুনিক এপ্লিকেশন এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে এক মিনি কম্পিউটার হিসেবে সর্বোচ্চটা আদায় করে নিচ্ছে।

মানুষের মনের কোনো সীমারেখা নেই। কেননা মানুষের মতো একটা ক্ষুদ্র প্রাণি (মহাজগতের সাপেক্ষে)  অসীমকে অনয়াসেই ধারণ করতে পারে। সে তা ধারণ করে তার মস্তিষ্কে৷ তার মনের কল্পনা অসীম,চিন্তাও অসীম। মনের চালক মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে মানুষ তার মস্তিষ্কের খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ ব্যাবহার করে। একটি আধুনিক কম্পিউটারের যে ক্ষমতা তা থেকে মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা ১০০০০ গুণ বেশি৷ যদি আধুনিক একটা কম্পিউটারের মূল্য ৩০০০০ টাকা হয় তবে মানুষের ব্রেনের মুল্য হবে ৩০০০০×১০০০০=৩০০০০০০০০ টাকা। কিন্তু মানুষের এত কোটি টাকার সম্পদ থাকা সত্তেও তারা মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত দরিদ্র৷ এ পর্যন্ত মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ ব্যাবহার করেছেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন।

তবে এটা ভাবাই ভুল যে আইনস্টাইন একজনই হয়েছেন। বেটোভেনের মতো সুরস্রষ্টাও আর কেউ হতে পারবে না।
অসীম সম্ভাবনার জীবন আমাদের ; অশেষ বিস্ময়ের সৃজন এ শারিরীক উপাদানসমূহের সমন্বয়ে আশ্চর্যজনক সৃষ্টি “মানুষ” জল-স্থলে-অন্তরীক্ষ জয় করে বিজয় পতাকা উড্ডয়ন করে ফেলে প্রতিনিয়ত।

শুধু হারানো অতীত, অনাগত ভবিষ্যতের আশংকায় যদি ”সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বর্তমান”-কে পূর্ণ সদ্ব্যবহার না করাতেই আমাদের যত অসাফল্য বা ব্যর্থতা।।
সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ হোক আমাদের সোনার তরী।।।


(নাজিম: ০৯-০১-২০২০)