এখানে সব হারানো শীত-স্মৃতি

0
31

এখানে সব হারানো শীত-স্মৃতি

—-
এ নগরে আর দুরন্ত শৈশবের কোলাহল পাওয়া যায়না..
শীতের ভাঁপাপিঠার দুপাশে পোড়া দাগ আর নেই;
খেঁজুর রসের হাড়ি নিয়ে আসা কৃষাণের ভোর দুর্লভ..
নেই মুড়ির মোআ আর ছিড়ার মোআর আবেদন।

এ যুগে আর প্রাতঃস্কালে রোদ পোহানোর তাড়া নেই,
নেই আগুন জ্বালিয়ে অগ্নিকুন্ডলীর চারপাশে
লুঙ্গিপড়া গ্রামের আবালবৃদ্ধবণিতার স্বস্তি।

এ দুপুরে পুকুরঘাটে ঠান্ডায় প্রায় জমে যাওয়া পানিতে
কিশোর যুবার স্নানপূর্ব অপেক্ষার দৃশ্য,
দুপুরে অসমাপ্ত খড়ের গাদার উপরে ‘মধ্যাহ্নভোজ’ নামের ভাত-সবজি খাওয়া
নেই বিকেলে খোলামাঠে ফুটবলেরর ডিসেম্বর চিত্র।

এ কালে আর সেকালের সেরূপ অপরূপ রূপ নেই
নেই সন্ধ্যার পর কাটা ধানের নাড়া আনার ধুম,
কিংবা বিল থেকে মাটির বড় টুকরো (দলা) আনার দৃশ্য
উঠোনে উঠোনে কাটা ধানের স্তুপ আজ কই?

সন্ধ্যার পর কুয়াশায় ঘেরা গাঁয়ের দৃশ্য,
গ্রাম্যহাটে চায়ের আড্ডা বা মাঠে গারিয়াবন্ধা,
সারাবছর জমানো টাকায় মেলায় ছুটে যাওয়া কিশোর,
কিংবা টর্চ লাইটেও অদেখা অদ্ভুদ পথচারী,
নৈঃশব্দে সুনসান নীরবতার গেঁয়ো রাতে
বিলের মাঝে পিকনিকের প্যান্ডেল মাঝে মাঝে বালকদের মাইকে গানের শব্দ,
বিয়েবাড়ির উঠোনে মেহেদিরাতে কাউয়ালি গান,
খড়ের বিছানায় ধৈর্যশীল শ্রোতার বিরল বিনোদন,
এসব কি আজ আজকের গ্রামেও আছে?

এ যুগে শীত যেন গ্রীষ্মের মতোই উঞ্চ
এ যুগে শীত হারিয়েছে শীতের শীত!
ভেসলিনে দূর করা সাবেক চৌচির ঠোঁটের মতো
এ যুগের শীত আমাদের অতীতে সাথে অমিল,
আধুনিকতার ঘাড়ে দোষ ছাপানো এই আমরাই
হারিয়ে হেরেছি গ্রামের সেসব ঐশ্বর্য।
এখানে সব হারিয়ে ফেলি হারানো সৌন্দর্য!


নাজিম
ডিসেম্বর ১৮, ২০২১