….এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর

89
15

….. এই বাংলার মায়া ভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর…

পায়ে হেঁটে অজপাড়াগাঁয়ের মেঠো পথে দু’পাশে সবুজের সমারোহ অবলোকন করার দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি করতে দেখলে গ্রামের বৃদ্ধ বা দুরন্ত কিশোরেরা হাস্যকর দৃষ্টিতে তাকাবে সত্য, কিন্তু সাথে সাথে পুলকিতও হয় যখন তাদের গাঁয়ের ছবি অপর গাঁয়ের অজানা লোকের হাতে ক্যামেরাবন্দি হয়।

এ হাস্যকর দৃশ্য আমার কাছে হিমালয়ের এভারেষ্ট শৃঙ্গ, সাজেকের কংলাক চূড়া, কক্সবাজারের ইনানী বা ছেঁড়া দ্বীপ, বগা লেক, জাতিপায়া ঝর্ণার স্নিগ্ধতা, সুন্দরবন বা সিলেট জাফলংয়ের মায়াবি রূপ, দ্য প্যালেসে পূর্ণিমারাতে চাঁদ দর্শন, পুত্রজায়ার টুইন টাওয়ারের ছাদ, মরিশাস দ্বীপ বা আরব সাগরে শখের মাছ শিকারে উল্লাস, উচ্ছ্বাসের বা উৎসাহের চেয়ে কোন অংশে কম নয়; বরং এ সবুজের পেছনের ঘর্মাক্ত কৃষকের কষ্টের অতীত, এ সবুজ পরবর্তীতে পাকা পোক্ত শস্য-ফসল-সবজি দ্বারা দেশের জিডিপিতে বিরাট ভূমিকা রাখার তথ্য জেনে গর্বিত, প্রাণ সঞ্চারিত ও প্রাণার্জিত হই, সবেগে জেগে ওঠে কৃষকদের শিক্ষাপীঠের এ প্রাক্তন এলামনি।

ছবির সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও আমার অনুজ বড় কুটুম সৌরভ তার ফটোগ্রাফি কারিশমা ভালোই দেখানোর সুযোগ পেলো আজ।

মটর লতা, ধনে পাতার সাদা ফুল, আলুচারার সবুজতা, উপরে আলোকিত সূর্যের নীচে দু’পাশে অজস্র সবুজের মাঝে মেঠো শুভ্র পথ, পথের ধারে শীম লতায় কাঁচা পাকা শীমের অহিংস বসবাস, অমর গাছের ফুল, পাশে থাকা খড়ের গাদা (কুইজ্জা), গরু, হাঁস মুরগীর অবাধ বিচরণে কিছুক্ষণ চলে গিয়েছিলাম ফেলে আসা শৈশবে। দূর থেকে দুরন্ত কিশোরদের ক্রিকেট খেলার দৃশ্যে নিজের রোমান্থন না-ই বা করলাম।

এ শাশ্বত সুন্দর বাংলার রূপ কথা, কাব্য, গানে ফুটিয়ে তুলেছেন শত জীববনান্দ, রবীন্দ্রনাথ, ওয়াডসওয়ার্থ কিংবা কিটস, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেন নি: প্রকৃতির এ বিশালতা মাঝে আমাদের দৌড়ের ক্ষুদ্রতার পরিমাণটাও হয়তো তার অন্যতম কারণ….

আমরা এ প্রান্তরে গেয়ে উঠি সে প্রিয় সুর:
“…আমি এই বাংলার মায়া ভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর..”


মোঃ নাজিম উদ্দিন
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

 

89 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here