মধুর আমার ছেলেবেলা

0
76

মধুর আমার ছেলেবেলা

মোঃ নাজিম উদ্দিন

মধুর আমার ছেলেবেলা
দুরন্ত সব সকাল,
স্মৃতির নদে অপার ভেলা
কিশোরবেলার সেকাল।

আমার ছিল সবুজ মাঠে
শরৎকালের শিশির,
মক্তব ছিল, মসজিদঘাটে
সকাল ছিল খুশির।

দুপুর হয়তো স্কুল মাঠে
কখনো দিতাম ফাঁকি,
কখনো মাঠে, শ্যামল ঘাটে
পড়ার হিসাব বাকি!

তপ্ত দুপুর, ভরাট পুকুর
দারুন একটা মিল!
সাঁতার কেটে, লাফলাফিয়ে
দেহ ভেজায় সলিল!

বিকাল হতেই খোলা মাঠে
দৌড়ে নেই বাঁধা,
কখনো ছিলো গল্প বুনন
মুরুব্বিদের ধাঁধা!

পায়ে কভু ব্যথা ছিল
খেলায় ছিলাম তবুও;
পাছে বাবা বকুনি দিবে
কাতরানো নেই কভুও!

বর্ষা এলে বিলটা হতো
ছোট্ট একটি সাগর,
নৌকা পেলে সে কী খুশী!
লুকিয়েছি তার নোঙর!

দাদার সাথে মাছ ধরতে
যেতাম বিলে, খালে,
মলামাছ যেন মিছিল করে
দাদার ঝাঁকিজালে।

টিনের ছাদে বৃষ্টি যেনো
ছন্দে করতো গান,
বাড়ির বুড়ো দাদারা সবাই
মুখে পরতো পান।

এভাবেই কাটতো দিবস
ঘড়ি ছিলোনা হাতে
কোথায় ঘর, কোথায় বাড়ি
ঘরে ফিরি রাতে!

ঘরে ফিরলে বকুনি হবে
সন্ধ্যা তখন নামে,
আঙিনা আগে মুখর হবে
আল্লাহ-খোদার নামে।

পড়ার হিসেব করার আগে
ঝগড়ার হিসাব হলো:
পাশের বাড়ির আব্দুলেরে
‘মারলাম কেন বলো?’

বাবার শাসন, দাদুর আদর
বিপরীত দু’রেখায়!
আমায় কভু বকলে বাবা
দাদুর বকা খায়।

ক্লান্ত, তবুও দাদুর কাছে
কিসসা শুনি কত!
রাজা-রাণী, রাক্ষস তাতে
মরতো শত শত!

এভাবে কবে ঘুম যে এলো
পঙ্খীরাজের দেশে,
রাত পোহালে সকাল এলে
ওঠতাম অবশেষে।

তেমন ছিলো বালকবেলা
মজার মাঝে সাজা!
বাইরে মোদের দুষ্টবেলা
ঘরে ছিলাম রাজা!

ফিরে পেলে সেসব দিবস
দৌড়ে যেতাম কবেই!
স্মৃতিপটে সেসব সময়
সদা সদ্য রবেই।

—–

মোঃ নাজিম উদ্দিন
২৩-০৯-২০২০